২ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা

২ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা করা এবং তালিকা অনুযায়ী খাবার গ্রহণ করা অত্যান্ত গুরুত্ব পূর্ণ। বলা হয়ে থাকে ২ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকায় খাবারের তৃপ্ততা বলতে কিছুই থাকে না। অনেক খাবার এক বেলা খেয়ে শেষ করতে ইচ্ছে করলেও মুখে দেওয়ার সাথে সাথেই যেনো বমির বন্যা বয়ে যায়। কিন্ত কেবল বমি কিংবা অরুচিকে প্রশ্রয় দেওয়া যায়। নিজের জীবনের সাথে আরো একটি জীবনের জড়িয়ে থাকার গল্পটিকে প্রাণ দিতে দরকার নিয়মিত নিজের যত্ন নেওয়া এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়া।

নরমাল সময়ের চাইতে প্রেগন্যান্সিকালীন সময়ে বাড়তি খাবার গ্রহণ করাটা সবচেয়ে জরুরি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে হৃষ্টপুষ্ট নবজাতকের আশা করা যায়! চলুন তবে আজ জেনে নেওয়া যাক সময় অনুযায়ী “২ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা” গর্ভবতী মায়ের প্রথম তিন মাসের খাবার তালিকা এবং গর্ভবতী মায়ের নিষিদ্ধ খাবার এবং বাড়তি কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস। 

গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা

গর্ভবতী মায়ের ক্ষেত্রে খাবারসহ অন্যান্য যত্নের পরিমাণ ঠিক তখনই বাড়বে যখন সময় গড়ানো শুরু করবে। এক্ষেত্রে মাসিক ভিত্তিতে গর্ভবতী মায়ের খাবারের তালিকা সাজানো প্রয়োজন। বিশেষ করে সুষম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা দরকার।

এক্ষেত্রে অনেকেই বুঝতে পারেন না কোন মাসে কি পরিমাণ খাবার গ্রহণ করা উচিত। কিংবা কোন কোন খাবার প্রতিদিনের তালিকায় রাখা উচিত! সমস্যা যেখানে, সমাধানও ঠিক চারপাশে ঘুরতে থাকে। চলুন তবে এবারে মাসিক ভিত্তিতে গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা নিয়ে আলোচনা করা যাক। 

১ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা

গর্ভকালীন সময়ের ১ম মাসটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এই মাসেই ভ্রুণ পরিপক্ব হওয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকে। সুতরাং এই সময়টিকে বাড়তি গুরুত্বের সাথে নেওয়া উচিত। প্রয়োজনীয় যত্নের ব্যবস্থা করা উচিত। সেই সাথে মা’কে খাবারের ব্যাপারে সচেতন করে তোলা উচিত। এই সময়টাতে গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ খাবার হিসেবে যেসব খাবার রাখা উচিত সে-সব খাবার হলো:

  • ফলিক এসিডযুক্ত খাবার:
    ভ্রুণ পরিপক্ব হওয়ার ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটিকে সঠিকভাবে সম্পন্ন করার কাজে প্রয়োজন ফলিক এসিড। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সবজি এবং শাক যেমন পালং শাক, বাঁধাকপি, শতমূলী, লেবুবর্গীয় ফল, বীনস, মটরশুটি, মুসুর ডাল, আভোকাডো, ব্রাসিলস ইত্যাদি খাওয়া উচিত।
  • দুধের তৈরি খাবার:
    প্রতিদিনের খাবারে ১ম মাসের গর্ভকালীন সময়ে দই, দুধ, এবং শক্ত চীজ বা পনির রাখুন। দুপুরে এবং রাতে খাবারের পরে দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে করে আপনার শরীরে থাকা ভিটামিন ডি এর ঘাটতি পূরণ হবে।
  • প্রোটিনযুক্ত খাবার:
    প্রোটিনযুক্ত খাবার সাধারণত আমরা প্রতিদিনই খেয়ে থাকি। তবে ১ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকায় এই খাবারের আরো বাড়তি ব্যবস্থা করা উচিত। এক্ষেত্রে মাংস জাতীয় খাবার খেতে পারেন৷ তবে এই বিশেষ সময়ে কোনোভাবেই আধা সিদ্ধ মাংস খাওয়া যাবে না।
  • মাছ:
    প্রথম মাসে সদ্য ভ্রুণ থেকে বাচ্চাকে সুস্থভাবে মেলে ধরতে দরকার বাড়তি শক্তি এবং পুষ্টি। ভিটামিন এ, বি২, বি৫, বি৬, বি১২, ডি, ই ও কে, এবং ফসফরাস, সেলেনিয়াম, ক্যালসিয়ামসহ জিংক এই কাজটি সহজেই সম্পন্ন করতে সাহায্য করে। এসব ভিটামিন পেতে মা’কে প্রতিবেলা মাছ খেতে দিতে হবে।

প্রথম মাসে সদ্য ভ্রুণ থেকে বাচ্চাকে সুস্থভাবে মেলে ধরতে দরকার বাড়তি শক্তি এবং পুষ্টি। ভিটামিন এ, বি২, বি৫, বি৬, বি১২, ডি, ই ও কে, এবং ফসফরাস, সেলেনিয়াম, ক্যালসিয়ামসহ জিংক এই কাজটি সহজেই সম্পন্ন করতে সাহায্য করে। এসব ভিটামিন পেতে মা’কে প্রতিবেলা মাছ খেতে দিতে হবে। 

২ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা

গর্ভধারণের ১ম এবং ২য় মাস নিয়ে অনেকেই কনফিউশনে ভুগে থাকেন৷ অথচ এই সময়টাতে ভ্রুণের প্রাথমিক সংবহনতন্ত্র এবং হৃদস্পন্দন তৈরি হতে থাকে। তবুও সময়টাতে অনেকেই বুঝতেই পারেন না সাথে আরো একটি জীবন বেড়ে উঠছে। যার ফলে খাবার-দাবারের বেলায় অসতর্কতা চোখে পড়ে। এই ধরণের অসচেতনতা থেকে মুক্তি পেতে জেনে নিন 2 মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা সম্পর্কে!

  • ফাইবার জাতীয় খাবার:
    কয়েকটি ফল এবং বেশকিছু সবজি হতে পারে ফাইবার জাতীয় খাবারের অন্যতম উৎস। এক্ষেত্রে গাজর, কমলালেবু এবং কলাসহ বেশকিছু ফল খেতে দিতে হবে। পাশাপাশি ফাইবার জাতীয় সবজি হিসেবে ২ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকায় বাঁধাকপি এবং ফুলকপি সবজিকেও রাখতে হবে। তাছাড়া এই সময়টাতে ভেজালমুক্ত সবজি খাওয়াটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
  • মাছ এবং মাংস:
    জিংক জাতীয় খাবার একটি ভ্রুণকে পরিপক্ক করে তুলতে সাহায্য করে। জিংকের ভালো উৎস নিয়ে যদি বলি তবে আমাদের আশেপাশে থাকা খাবারগুলির কথাই বলা যায়। যেমন মাছ, মাংস! সাধারণ সময়ে আমরা প্রতিবেলা ভাতের সাথে এই মাছ মাংস খেয়ে থাকি। তবে গর্ভকালীন সময়ে চেষ্টা করতে হবে এই মাছ, মাংস যেনো প্রতিদিনই খাওয়া যায়। অর্থ্যাৎ দিনের একবেলা মাছ খেলে অন্যবেলার অাবারে অবশ্যই মাংস রাখতে হবে।
  • ড্রাই ফুট:
    2 মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকায় অবসর সময়ে মা যেনো খেতে পারে এমন কিছু পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা উচিত। এক্ষেত্রে ড্রাই ফ্রুট পারফেক্ট চয়েজ হতে পারে। বলা হয়ে থাকে ড্রাই ফ্রুট ফলিক এসিডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সুতরাং গর্ভবতী মাকে নিয়মিত অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি ড্রাই ফ্রুট খাওয়ানোর চেষ্টা করুন৷
  • আয়রণ জাতীয় খাবার:
    ২ মাসের গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন গর্ভকালীন সময়ের সমস্যা দেখা যায়। এক্ষেত্রে সকালে খু্ব বেশি দূর্বল লাগার ব্যাপারটি একেবারে না বললেই নয়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে ২ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকায় অবশ্যই আয়রণ জাতীয় খাবার যেমন পালং শাক, মেথি গাছ, মুরগির মাংস রাখতে হবে।

৪ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা

৪ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা নিয়ে আলোচনা করার আগে ৪ মাসের গর্ভবতী মায়ের স্বভাব এবং সমস্যা সম্পর্কে বলে নেওয়া দরকার। এতে করে কোন কোন খাবারগুলি কেনো তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে তা জানতে বেশ সুবিধা হবে৷

২ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা

প্রথম ৩ মাসে গর্ভবতী যখন প্রচন্ড মাথা ব্যাথা, খিটমিটে মেজাজ, খাবারে অরুচি এবং দূর্বলতা সাথে নিয়ে দিন কাটাতে থাকে…..পরবর্তী মাসে অর্থ্যাৎ ৪র্থ মাসে এসে গর্ভবতী মায়ের কাছ থেকে এসব সমস্যা মুহুর্তেই গায়েব হয়ে যেতে শুরু করে। যেহেতু এই সময়টাতে খাবারের প্রতি অরুচি থাকার কথা না সেহেতু আশা করি নিয়ম মেনে খাবার খেতে মা’য়ের কোনো সমস্যা হবে না। ৪ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা নিচে দেওয়া হলো!

  • ডিম:
    এই সময়টাকে ফলিক এসিডের গুরুত্ব অনেক বেশি। সুতরাং ভালো পরিমাণে ফলিক এসিড পেতে গর্ভবতী নারীকে ডিম খাওয়ানোর চেষ্টা করতে হবে। বাঙালি হিসেবে ডিম আমাদের কাছে বেশ সহজলভ্য একটি খাবার। বিশেষ করে যাদের ঘরে মুরগির লালন-পালনের ব্যবস্থা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এই ডিমের যোগান দিতে কোনো সমস্যা হবার কথা নয়!
  • বীজ জাতীয় খাবার:
    এখানো বীজ জাতীয় খাবার বলতে বাদাম টাইপের খাবারকে বোঝানো হয়েছে। বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে বিভিন্ন ধরণের বাদাম পাওয়া যায়। এছাড়াও যেসব বীজদানা খাওয়া যায় (কাঁঠালের বীজ) সে-সব খাওয়ানো যেতে পারে।
  • ভিটাসিন সি জাতীয় খাবার:
    ৪ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা অবশ্যই ভিটামিন সি জাতীয় খাবার নিশ্চিত করতে হবে। ভিটামিন সি জাতীয় খাবারের মধ্যে আমলকি, কমলা, মালটা, আঙুর, পেঁপে, আনারস, জাম, কাঁচা মরিচ, পুদিনাপাতা বা পার্সলেপাতা অন্যতম। সহজলভ্যতার দিক দিয়ে এসব খাবার আমাদের হাতের কাছেই পাওয়া যায়। সুতরাং এসব খাবার ডেইলি চার্টে রাখতে আশা করি কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে না।
  • ভাত:
    শর্করা জাতীয় খাবারের ক্ষেত্রে ভাতকে গুরুত্ব দিতে হবে! কারণ এই বিশেষ সময়টাতে শরীরে বাড়তি শক্তির দরকার পড়ে। যা পূরণ করার ক্ষেত্রে নিয়মিত দুইবেলা কিংবা তিনবেলা করে ভাত খাওয়া জরুরি।

৬ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা

একজন ৬ মাসের গর্ভবতী নারী কিন্তু গর্ভকালীন সময়ের অর্ধেক সময় পার করে ফেলেছে। এক্ষেত্রে খাবার-দাবারের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়া দরকার। যদিও এতে পরিবর্তনের দিক দিয়ে বাড়তি কোনো পয়েন্ট মেনে চলবার প্রয়োজন নেই। চলুন এবারে দেখে নেওয়া যাক ৬ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা।

  • কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার:
    ৬ মাসের গর্ভাবস্থায় দিনে এক বা দুই অংশ কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে আপনি চাইলে আলু, পাস্তা, মিষ্টি ভুট্টা, বিভিন্ন খাওয়ার মতো বীজ এবং বাদাম কিংবা ওটস খেতে পারেন।
  • তরল জাতীয় খাবার:
    শুধুমাত্র ৬ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকাতেই নয়! বরং এই তরল জাতীয় খাবার পুরো গর্ভকালীন সময়েই রাখা চাই। এক্ষেত্রে আপনি প্রচুর পানি এবং ফলের রস পান করতে পারেন৷ সবচেয়ে বেশি ভালো দিনে ৬/৭ গ্লাসের চাইতেও বেশি তরল জাতীয় খাবার বা পানীয় পান করা!
  • দুধের তৈরি খাবার বা দুধ:
    দুধ ক্যালসিয়ামের বিশার একটি উৎস। গর্ভকালীন সময়ে ক্যালসিয়ামের বাড়তি প্রয়োজনীয়তা কাজ করে। বিশেষ করে বাচ্চা হাড় তৈরি এবং তা শক্তিশালী করার মিশনকে সামনে রেখে নিয়মিত দুধ এবং দুধের তৈরি খাবার খাওয়া উচিত।
  • বিভিন্ন রঙিন ফল:
    রঙিন ফল মানে বিভিন্ন ভিটমিনের ফুল প্যাকেজ। তাজা ফল একজন গর্ভবতীকে সবসময় সতেজ রাখার ভিটামিন যোগান করে থাকে। সুতরাং ৬ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকায় কলা, আঙ্গুর, কিউই, আপেল, নাশপাতি, ক্লেমেন্টাইন, কমলালেবুসহ বিভিন্ন দেশী-বিদেশী ফলের কালেকশন রাখুন।

৮ মাস গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা

৮ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা নিয়ে এবারে আমরা আলোচনা করবো। তবে তার আগে আপনাকে মাথায় রাখতে হবে এই সময়টা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। শেষ মুহুর্তের যত্নটা যেনো পারফেক্টলি হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে এবং মাকে যেসব খাবার নিয়মিত খাওয়াতে হবে সেসব খাবার হলো:

  • উচ্চমাত্রার কার্বোহাইড্রেট খাবার:
    লক্ষ্য করুন! এখানে আমরা “উচ্চমাত্রা” শব্দটি ব্যবহার করেছি। সুতরাং অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এমন খাবারকে গুরুত্ব দিতে হবে। এক্ষেত্রে গমের আটা, আলু এবং কলা ৮ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকায় রাখতে পারেন।
  • প্রোটিন এবং চর্বি জাতীয় খাবার:
    প্রোটিন এবং চর্বি জাতীয় খাবার হিসেবে ৮ মাসের গর্ভবতী মাকে লেবু, বাদাম, মাংস এবং দুধ জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে। এই সময়টাতে প্রতিদিন ৭৫ থেকে ১০০ গ্রাম প্রোটিনযুক্ত খাবার খেতে হবে।
  • DHA- সমৃদ্ধ খাবার:
    শিশুর মস্তিষ্কের সঠিক বিকাশের জন্যে মাকে ৮ম মাস থেকে DHA- সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে। টুনা, মাছের তেল, আখরোট ইত্যাদি খাবারে প্রচুর পরিমাণ DHA থাকে।
  • আঁশযুক্ত খাবার:
    ফুলকপি, পালং শাক, বাঁধাকপি ইত্যাদি হলো আঁশযুক্ত খাবার। তবে মনে রাখবেন আঁশযুক্ত খাবারের কারণে গর্ভবতী মায়ের পরিপাকতন্ত্র থেকে বাড়তি পানি সরে যায়। এক্ষেত্রে বেশি বেশি পানিও খেতে হবে।

৯ মাস গর্ভবতী মায়ের খাদ্য তালিকা

এই সময়টা প্রতিটি গর্ভবতী মায়ের জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কথায় আছে শেষ ভালো যার, সব ভালো তার। সুতরাং গর্ভকালীন সময়ের শেষ পর্যায়টা যেনো ভালো তা নিশ্চিত করতে অন্যান্য শর্ত পূরণের পাশাপাশি খাবারের দিকটাকেও মাথায় রাখতে হবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক ৯ মাস গর্ভবতী মায়ের খাদ্য তালিকা সম্পর্কে।

  • রুটি জাতীয় খাবার:
    রুটি জাতীয় খাবার বলতে পাউরুটি, রুটি, পরোটা কিংবা আটার তৈরি নাস্তাকে বোঝানো হচ্ছে! রুটি জাতীয় খাবার ফাইবার খাবারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শেষ সময়টাতে প্রতিদিন যেনো খাবারে রুটি থাকে তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে হবে।
  • সবজি:
    সবজি খেলে যেমন বাড়তি শক্তি পাওয়া যাবে। তেমনই অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনও পাওয়া যাবে। সাধারণ খাবারের চাইতে সবজিতে সবসময় বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন একসাথে পাওয়া যায়।
  • রঙিন ফল:
    বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হাতের কাছে যেসব ফলমূল পাওয়া যায় সেসব ফল দিয়েই গর্ভবতী মায়ের পুষ্টি নিশ্চিত করা যায়। সুতরাং ৯ মাস গর্ভবতী মায়ের খাদ্য তালিকায় রঙিন ফল রাখতেই হবে।
  • আয়রণ জাতীয় খাবার:
    আলুবোখারা, পালং শাক, ব্রকোলি, চিকেন, কড়াইশুঁটি, বেরী মাছ, ডিম ইত্যাদি হলো আয়রণ সমৃদ্ধ খাবারের অন্যতম উৎস৷ বাচ্চার শক্তিশালী হাড় গঠনে এবং মায়ের শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে এই ধরণের খাবার বেশ কাজে দিবে।

গর্ভবতী মায়ের নিষিদ্ধ খাবার

মনে রাখবেন একদিকে যেমন মায়ের খাবার থেকেই গর্ভের শিশু পুষ্টি পায়, অন্যদিকে মা যদি নিষিদ্ধ খাবার খেয়ে থাকে তবে তার প্রভাবও সেই শিশুর উপর পড়ে। গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী মায়ের নিষিদ্ধ খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। সুতরাং “গর্ভবতী মায়ের নিষিদ্ধ খাবার” সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত। চলুন দেখা যাক এই সময়ে ঠিক কোন কোন খাবার এড়িয়ে যাওয়া উচিত? 

ক্যাফেইন জাতীয় সমস্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। চা, কফিসহ এ-জাতীয় খাবার একেবারে বন্ধ না করলেও খাওয়ার পরিমাণটাকে কমিয়ে দিতে হবে। 

অনেকেই মনে করে থাকে এই স্পেশাল সময়ে গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকায় কলিজা রাখা উচিত। কেননা এই জাতীয় খাবার মানবদেহে রক্ত তৈরিতে কার্যকর ভুমিকা পালন করে। যা একেবারেই ভুল ধারণা। এই সময়টাতে অবশ্যই কলিজ খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে। 

সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমাণের দিকে নজর দিতে হবে। বেশি পরিমাণে একেবারেই খাওয়া যাবে না৷ পাশাপাশি কাঁচা ডিম খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। সাথে নিষিদ্ধ খাবারের লিষ্টে রাখতে হবে অর্ধসিদ্ধ মাংস!

ইতি কথা

গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা নিয়ে এই ছিলো আমাদের তথ্য বহুল আলোচনা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গর্ভকালীন সময়ে মায়ের যত্নকে খুব একটা গ্রাহ্য করা হয় না। যা পরবর্তীতে মা এবং সন্তান উভয়ের ক্ষেত্রে ক্ষতি ডেকে আনে। সুতরাং এ ব্যাপারে আজ থেকেই সচেতন হোন। ২ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা সম্পর্কে যদি আরো কিছু জানার থাকে তবে কমেন্ট বক্সে জানান।

সবাইকে ধন্যবাদ !

 

1 comment
Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *