গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস কত হলে ইনসুলিন নিতে হয়

ডায়াবেটিস আমাদের সকলের জন্য কমন একটা রোগ হয়ে দাঁড়ায়েছে। তাই গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস কত হলে ইনসুলিন নিতে হয়, ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল, ডায়াবেটিস কমানোর উপায় এবং ডায়াবেটিস কত হলে মানুষ মারা যায়, এসব সম্পর্কে আপনাকে জানতে হবে।

অনেকের গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস দেখা দেয়। এই ডায়াবেটিস কে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বলে। সন্তান প্রস্রাব করার পরে অনেকের এই ডায়াবেটিস আর থাকে না। আবার অনেকের অল্প পরিমান হলেও এই ডায়াবেটিস থেকে যাই।

ডায়াবেটিস! বর্তমানে প্রতিটি মানুষের কাছে যেনো এক আতঙ্কের নাম! বিশেষ করে ভোজনরসিক মানুষগুলোর কাছে এই রোগ যেনো কুখ্যাত নিষেধাজ্ঞার সমষ্টি! তবে প্রশ্ন হলো এতো জনপ্রিয় রোগটি সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি? যতটা জানি ততটা কি আদৌ আমাদের চাহিদা পূরণ করতে পারছে?

চলুন তবে আজ ডায়াবেটিস কি, ইনসুলিন কি, ডায়াবেটিস এর লক্ষণ, ডায়াবেটিস সারানোর উপায়, কিংবা গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস কত হলে ইনসুলিন নিতে হয় এসব সম্পর্কিত তথ্যসহ অন্যান্য তথ্য সম্পর্কে রিসার্চ করা যাক।

ডায়াবেটিস কেন হয়?

ডায়াবেটিস রোগীরা অনেকেই হয়তো জানেন না ডায়াবেটিস কেন হয়! কিংবা এই রোগ মানবদেহে সৃষ্টি পেছনের মূল কারণ কি! মূলত সহজ কথায় দেহ যখন চিনি কিংবা চিনি জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে পারে না, ইনসুলিন নামক হরমোন তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং রোগী তবুও বাড়তি চিনি গ্রহণ করতে থাকে ঠিক সেসময়টাতে দেখা দেয় এই ডায়াবেটিস রোগ।

ডায়াবেটিস হলে কি কি সমস্যা হয়?

আপনি জানেন কি রোগীর ডায়াবেটিস হলে কি কি সমস্যা হয় বা হতে পারে? মূলত ডায়াবেটিস রোগকে সকল রোগের সমষ্টি বলা হয়ে থাকে। কেনো? কারণ এই রোগের সমস্যা শেষ নেই। এসব সমস্যার কিছু অংশ নিচে তুলে ধরা হলো:

১. চোখে ছানি পড়া:

যারা ডায়বেটিস রোগে আক্রান্ত তাদের চোখে ছানি পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। যার কারণে স্বাভাবিক সময়ের চাইতে রোগ-পরবর্তী সময়ে রোগীর চোখে ঝাপসা দেখার পরিমাণ বেড়ে যায়।

২. রেটিনোপ্যাথি রোগ সৃষ্টি হয়:

এটিও একধরণের চোখের রোগ। এই রোগকে আবার অনেক সময় ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি রোগও বলা হয়ে থাকে। যা চোখের রেটিনাকে পরবর্তিত করে ফেলে।

৩. কিডনিতে সমস্যা তৈরি হয়:

ডায়াবেটিস রোগ হলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। আর এই শর্করার পরিমাণ বেড়ে গেলে কিডনির রক্তনালীগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

৪. পায়ের সমস্যা তৈরি করা পারে:

ডায়াবেটিস রোগীদের নখসহ পায়ের ত্বক সবসময় শুষ্ক থাকে। এছাড়াও মাঝেমধ্যেই প্রচন্ড ব্যাথা অনুভুত হতে পারে।

৫. স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়:

অনেকেই ভাবছেন, ডায়াবেটিস রোগের সাথে আবার স্ট্রোকের কি সম্পর্ক? আসলে ডায়াবেটিস রোগের সাথে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণের একটি ব্যাপার জড়িত থাকে। যা একটু হেরফের হলেই রোগীর স্ট্রোক করার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

৬. মাড়ির রোগের সৃষ্টি হতে পারে:

কেবল এক ধরণেই নয়! ডায়াবেটিস রোগীদের অনেক ধরণের মাড়ির রোগ কিংবা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। কম থুতু তৈরি হওয়া, মাড়িতে ব্যাথা করা, মাড়ি ফেটে রক্ত বের হওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস কত হলে ইনসুলিন নিতে হয়?

গর্ভকালীন সময়ে আমাদের মায়েদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা একটু স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী হয় সেটিকেই গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হিসেবে বিবেচিত করা হয়।

“গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস কত হলে ইনসুলিন নিতে হয়” এই প্রশ্নের উত্তর হলো, গর্ভাবস্থায় যদি ডায়াবেটিস হয় তবে একজন অভিজ্ঞ ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। গর্ভাবস্থায় স্ব-ঔষধ বা অপেশাদার পরামর্শকে মৃত্যু পরোয়ানা হিসাবে বিবেচিত হতে পারে।

ডায়াবেটিস এর লক্ষণ কি কি?

কিভাবে বুঝবেন আপনার ডায়াবেটিস রোগ হয়েছে কিনা? বুঝতে হলে ডায়াবেটিস এর লক্ষণ গুলো কি কি সে গুলো আগে জানতে হবে। মূলত এই রোগের লক্ষ্মণকে আমলে নেওয়ার বেশকিছু স্টেপ রয়েছে। এসব স্টেপ সহজে বোঝার সুবিধার্থে এবার আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ফোকাস করবো।

ডায়াবেটিস এর লক্ষণ বুঝতে শুরুতে আপনাকে ব্লাড সুগার টেস্ট করাতে হবে। তবে তার আগে কিছু প্রাথমিক লক্ষণের ব্যাপারে আপনাকে সচেতন হতে হবে। যেমন:

  1. প্রতিরাতে খুব বেশি প্রস্রাবের বেগ পাওয়া
  2. অনেক বেশি তৃষ্ণা অনুভূত হওয়া
  3. সবসময় খুব বেশি ক্লান্তবোধ করা
  4. মাঝেমধ্যেই হাত-পা অসার হয়ে যাওয়া
  5. শুধু শুধু ত্বক শুষ্ক হতে শুরু করা
  6. অনেকবেশি পিপাসা লাগা
  7. স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সংক্রমিত রোগের মুখোমুখি হওয়া
  8. বিভিন্ন ক্ষতে ধীরে ধীরে ঘা সৃষ্টি হওয়া
  9. এবং ঘা একবারে শুকানোর চেষ্টা না করা
  10. চোখে ঝাপসা দেখা
  11. কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি।

উপরের অংশে আলোচিত লক্ষ্মণগুলি ছিলো ডায়াবেটিস রোগের সম্পূর্ণ লক্ষ্মণগুলির একটি অংশ।

এবার যদি স্টেপ আকারে বলি তবে বলবো ১ম স্টেপে আপনার বমি বমি ভাব কাজ করতে পারে। সপ্তাহ কিংবা মাস জুড়ে এই লক্ষ্মণ থেকে গেলে ব্যাপারটিকে নিয়ে ভাবতে হবে।

২য় স্টেপে ডায়াবেটিস রোগের লক্ষ্মণগুলির স্থায়িত্ব সপ্তাহ কিংবা মাসের জায়গা বছরে পরিণত হয়ে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন ডায়াবেটিস রোগের এই ২য় স্টেপের লক্ষ্মণগুলিই মূলত এই রোগের শেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্মণ। যা খেয়াল করার পর আপনাকে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব টেস্ট করিয়ে রেজাল্ট সম্পর্কে জানতে হবে।

ডায়াবেটিস কমানোর উপায় কি?

পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে যদি জানতে পারে ইতিমধ্যেই আপনি ডায়াবেটিস রোগীদের কাতারে পড়ে গেছেন তবে মোটেও চিন্তা করবেন না! ডায়াবেটিস কমানোর উপায় কি এ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ডাক্তরের পরামর্শ নিন। নিজেকে শক্ত করে এই রোগ প্রতিকারের ব্যবস্থা করুন।

যদিও ডায়াবেটিস রোগকে কখনোই পুরোপুরিভাবে নির্মূল করা যায় না। তবে কন্ট্রোল করা যায়! চলুন তবে এবারে জেনে নেওয়া যাক ডায়াবেটিস কমানোর উপায় সম্পর্কে।

নিজেকে ধীরে ধীরে সুশৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্ত করে নিন। হয়তো কিছুটা সময় লাগবে কিংবা কঠিনও মনে হতে পারে। তবে মানুষের চেষ্টার কাছে এই কাঠিন্য তেমনই কিছুই না! সম্ভব হলে একটি রুটিন রেডি করে চোখে পড়ার মতো স্থানে সেট করে রাখুন। নতুবা মোবাইল ওয়ালপেপার হিসেবে সেট করে রাখতে পারেন।

যারা শাকসবজি খেতে পছন্দ করেন না তারা ধীরে ধীরে শাকসবজিকে ভালোবাসতে শুরু করুন। যেখানে ৩ বেলায় হেভি মসলা দিয়ে রান্না করা গরুর মাংস দিয়ে ভাত খেয়েছেন, সেখানে কমপক্ষে ২ বেলাতেই সবজি রাখার চেষ্টা করুন। সহজপাচ্য সবজি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।

যাদের দিন কিংবা সপ্তাহ দোকান থেকে কেনা অধিক ক্যালরিযুক্ত খাবার, ফাস্টফুড, কোমল পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার, চকোলেট, আইসক্রিম ছাড়া চলেই না তারা সতর্ক হোন। কেননা ডায়াবেটিস রোগী এসব অস্বাস্থ্যকর খাবার নিয়মিত গ্রহণ করা আপনার ক্ষেত্রে মানায় না।

সারাদিন শুয়ে-বসে সময় না কাটিয়ে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। ঘাম ঝড়িয়ে পরিশ্রম করুন। এতে করে যেমন আপনার ওজন ঠিক থাকবে ঠিক তেমনই ডায়াবেটিস রোগকেও নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে। মনে করি এইগুলোই একমাত্র ডায়াবেটিস কমানোর উপায়।

ডায়াবেটিস কমানোর খাবার কি কি?

ডায়বেটিস রোগীর খাদ্যভ্যাসের উপরও অনেকসময় রোগের পরিস্থিতি নির্ভর করে। এক্ষেত্রে একজন ডায়াবেটিস রোগী হিসেবে আপনাকে মাছ, সবুজ শাক-সবজি, কম চিনি কিংবা চিনি ছাড়া চা, ডিমের সাদা অংশ, টক দই, লেবু, বাদাম, শষ্য দানা এবং মটরশুঁটি খেতে হবে। গবেষণা বলছে এসব খাবার রোগীর ডায়াবেটিস রেট নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

ডায়াবেটিস রোগীর নিষিদ্ধ খাবার তালিকা

ডায়াবেটিস কমানোর খাবারের পাশাপাশি একজন রোগীর ডায়াবেটিস রোগীর নিষিদ্ধ খাবার তালিকা সম্পর্কেও জ্ঞান থাকা উচিত। একজন ডায়াবেটিস রোগীর কখনোই বেশি মিষ্টতা থাকা খাবার, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, কালো জাম, অ্যাভোকাডো, পেঁয়ারা ইত্যাদি ফল এবং খাবার খাওয়া উচিত নয়!

ডায়াবেটিস রোগীর খাবার রেসিপি

ডায়াবেটিস রোগীর জন্যে যারা পারফেক্ট রেসিপি খুঁজে পাচ্ছেন না আর্টিকেলের এই অংশটি তাদের জন্যেই!

রেসিপি: রাগি গমের দোসা

উপকরণ:

  • ১ কাপ রাগির ময়দা
  • ১ কাপ গমের আটা
  • মাখনের দুধ
  • লবণ স্বাদমতো

পদ্ধতি:

উপরে লেখা সব উপকরণ একসাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়ে একটি ব্যাটার তৈরি করে রাতের দিকে রেখে দিন। রেস্টে থাকার পর পরেরদিন সকালে রুটি কিংবা দোসার মতো বানিয়ে নিন রাগি গমের দোসা।

ব্রেকফাস্ট হিসেবে ডায়াবেটিস রোগীর বেশ পছন্দের খাবার হয়ে উঠতে পারে এটি। সেই সাথে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অনুযায়ী এই খাবার বা রেসিপি তৈরি করা একদম সহজ, খরচ কম এবং খেতেও বেশ মজাদার। সুতরাং বাড়িতে এই রাগি গমের দোসা রেসিপি ট্রাই করতে ভুলবেন না কিন্তু!

ডায়াবেটিস এর ঔষধ কি কি?

ডায়াবেটিস এর ঔষধ হিসেবে সবচেয়ে জনপ্রিয় ঔষধ হলো ইনসুলিন। যা শরীরে ইনজেকশনের সাহায্যে নিতে হয়। সাধারণ ৩ ধরণের ইনসুলিনের ব্যবহার প্রচলিত রয়েছে। তবে এটি ব্লাড সুগার নামিয়ে দেওয়ার মতো বিপদে ফেলতে পারে।

ইনসুলিনের পাশাপাশি ডায়াবেটিস এর ঔষধ হিসেবে ডায়াবেট্রল ট্যাবলেটও বেশ জনপ্রিয়। সাধারণত শরীরে ইনসুলিন কাজ না করলে এই ঔষধটি সেবন করতে হয়।

ডায়াবেটিস রোগীকে ঔষধ খাওয়ার নিয়ম কি?

নরমালি ডায়াবেটিস রোগের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে রোগীকে ইনসুলিন নিতে হয়। নতুবা মৃত্যু ঝুঁকি বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে এই ইনসুলিন শরীরে প্রবেশ করানোর জন্য ইনজেকশনের সাহায্য নেওয়া হয়।

তবে সমস্যা হলো সকল ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রেই কিন্তু এই ইনসুলিন কাজ করে না। যার কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীকে ইনসুলিনের পরিবর্তে ডায়াবেট্রল ট্যাবলেট সেবন করতে হয়। এটি দেহে ইনসুলিনের অভাব পূরণে কাজ করে থাকে।

ইনসুলিন কি?

এটি মূলত মানবদেহের অগ্ন্যাশয়ের প্রধান হরমোন। এই হরমোনটি আমাদের শরীরের গ্লুকোজকে রক্ত থেকে কোষে চলে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে থাকে। হরমোনের পাশাপাশি এটিকে অনেকেই প্রোটিনও বলে থাকে। ধারণা করা হয় প্রোটিন হিসেবে মানবদেহে এই ইনসুলিনের আবিষ্কার ঘটেছে আজ থেকে প্রায় অনেকদিন আগে। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে এটি বেশ পুরোনো একটি উপাদান।

আর যদি সরাসরি ডায়াবেটিস রোগীদের ভাষায় ইনসুলিন সম্পর্কে বলি তবে বলবো, ডায়াবেটিস রোগের প্রধান ঔষধ হিসেবে কাজ করে থাকে এই ইনসুলিন। মানবদেহে এই কৃত্রিম হরমোন পৌঁছাতে ব্যবস্থা করা হয় ইনজেকশন। প্রতিটি ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে রোগের মাত্রা অনুযায়ী দ্রুত কর্মক্ষম, ধীর কর্মক্ষম এবং মিশ্র কর্মক্ষম. সাধারণত এই ৩ ক্যাটাগরির ইনসুলিন ব্যবহার করা হয়।

ইনসুলিন কিভাবে নিতে হয়?

আপনি কি জানেন, ইনসুলিন কিভাবে নিতে হয়? না জানলে এক্ষুণি জেনে নিন! ইনসুলিন নিতে হলে যেসব টেকনিক ফলো করতে হবে:

  • পরিচিত ফার্মেসি থেকে ইনসুলিন কিনে নিন
  • কিনে আনা ইনসুলিন কলম, কার্ট্রিজ বা শিশি রেফ্রিজারেটরে রেখে দিন
  • ইনসুলিন সিরিঞ্জের ব্যবস্থা করুন
  • যতটুকু প্রয়োগ করবেন সে পরিমাণের আইইউ/এমএলের সিরিঞ্জ নিন
  • পেটের চামড়ার নিচে পুশ করুন
  • এছাড়াও শরীরের যেকোনো চর্বি-জাতীয় অংশে এই ইনজেকশন পুশ করতে পারেন
  • প্রতিবার একই স্থানে ইনজেকশন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন

ইনসুলিন ব্যবহারের অপকারিতা

ইনসুলিন হলো ডায়াবেটিস রোগীর অন্যতম সমাধান এবং প্রশান্তি। তবে সবকিছু উপকারিতার পাশাপাশি অপকারিতার ব্যাপারটিকেও আমাদের মাথায় রাখতে হবে। আমরা যেনো এক রোগ সারাতে গিয়ে অন্য রোগের কাছে মাথা নত করে না ফেলি সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। সুতরাং এবারে চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক ইনসুলিন ব্যবহারের অপকারিতা সম্পর্কে।

  • ইনসুলিন নেওয়ার পরপরই পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হিসেবে আপনার হাত-পা ফুলে যেতে পারে। এছাড়াও ওজন বেড়ে যাওয়ারও একটি চান্স থেকে যায়।
  • যারা ইনসুলিন নিয়ে থাকেন তাদের ইনসুলিন নেওয়ার পরপরই অতিরিক্ত ঘাম ঝড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। সাথে থাকতে পারে মাথা ঘোরাজনিত সমস্যা।
  • পাশাপাশি লক্ষ্য করলেই দেখবেন কিছুক্ষণ পরই আপনার হাতে, পায়ে, ঠোঁটে বা জিহ্বায় কাঁপুনি ধরে গেছে।
  • সবকিছুতে একটা বিভ্রান্তি কাজ করবে। কোনো কাজে মন বসবে না! প্রচুর অস্বস্তিতে ভুগতে হবে এবং ঠিকঠাকভাবে কোনো কাজই শেষ করা যাবে না।
  • চোখে ঝাপসা দেখা শুরু করবেন। কথা-বার্তা বলতে গিয়ে ঝাপসা-ভাব কাজ করবে। এছাড়াও মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকার চান্স রয়েছে।

ইতি কথা

আশা করি ডায়াবেটিস রোগীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অর্থ্যাৎ “গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস কত হলে ইনসুলিন নিতে হয়” কিংবা কিভাবে এই রোগ থেকে নিজেকে নিরাপদে রাখা যায় ডায়াবেটিস কমানোর উপায় সে-সম্পর্কে জানতে পেরেছেন! তবুও যদি কোনো প্রশ্ন থেকে থাকে আমাদের ওয়েবসাইটের কমেন্টবক্সে কিংবা অফিসিয়াল মেইলে মেইল করতে পারেন। আসুন সচেতনতা বাড়িয়ে তুলে ডায়াবেটিসকে বিদায় জানাই! সুশৃঙ্খল জীবনকে আঁকড়ে ধরি, ভালো থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *